বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, June 12, 2026

মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির-সংলগ্ন পাহাড় ‘মিনি কাশ্মীর’ নয়, দেবোত্তর সম্পত্তিতে পর্যটনকেন্দ্রের দাবি আইনসঙ্গত হবে না

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন কিছু পাহাড়কে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিনি কাশ্মীর’ বা ‘নীল পাহাড়’ হিসেবে প্রচার করে সেখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি তোলা হচ্ছে। তবে স্থানীয় ও আইনগত সূত্র বলছে, এসব পাহাড় আদতে দেবোত্তর সম্পত্তি, যা পর্যটন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়গুলো প্রাকৃতিকভাবে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ, বিভিন্ন স্থানে গভীর খাদ রয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খাজনার বিনিময়ে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ঘাস ও শন সংগ্রহের জন্য এসব জমি ব্যবহার করছেন। বর্ষায় পাহাড় সবুজে ঢেকে গেলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ছবি-ভিডিও দেখে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন, দৌড়াদৌড়ি ও ছবি তুলছেন। এতে একদিকে লিজগ্রহীতাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, জমিদার শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরী ১৮৭৬ সালে এসব সম্পত্তি দেবোত্তর হিসেবে উৎসর্গ করেন। দেবোত্তর সম্পত্তি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়, বরং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গকৃত। আইনজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত আইন ও উচ্চ আদালতের নীতিমালা অনুযায়ী, দেবোত্তর সম্পত্তির মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করে বিনোদন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে এখানে সাধারণ পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট বা বিনোদন পার্ক করার দাবি দেবোত্তর সম্পত্তির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
যদিও মন্দির-সংশ্লিষ্ট প্রবীণরা বলছেন, ধর্মীয় পরিবেশ ও সম্পত্তির চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে তীর্থযাত্রীদের সুবিধায় যাত্রীনিবাস, নিরাপদ সিঁড়ি বা বিশ্রামাগারের মতো উন্নয়নমূলক কাজ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে, প্রয়োজনে মন্দির কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান লিজও পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আবেগনির্ভর প্রচারণার বদলে ইতিহাস, আইন ও সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থান বিবেচনার পাশাপাশি দেবোত্তর সম্পত্তির ধর্মীয় মর্যাদা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয়দের জীবিকা— এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

No comments:

Post a Comment

"
"