বরগুনায় দুই শিশুকন্যাসহ তিন সনাতনী নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নিহত ইতি রানীর পরিবার, স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা জানান, ইতি রানী অল্প বেতনে সরকারি ডাকবাংলোতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে শহরের ভূতমারা এলাকায় বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগে ডাকবাংলোর একটি কক্ষ পরিষ্কারের জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, পুরো দিনের ফুটেজ প্রকাশ না করে মাত্র দুই ঘণ্টার একটি অংশ দেখানো হয়েছে, ফলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসেনি।
স্বজনরা আরও দাবি করেন, ইতি রানীর কোনো ঋণ, পারিবারিক কলহ বা এমন কোনো সমস্যা ছিল না, যা তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও স্বাভাবিক ছিল। এ কারণে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন রাখেন, "এটি যদি আত্মহত্যা হয়, তাহলে ডাকবাংলোতে গিয়ে ঘটানোর কারণ কী? আর দুর্ঘটনা হলে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ কেন আলাদা কক্ষ থেকে উদ্ধার হলো?" এসবের উত্তর পেতে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত দরকার বলে তারা জোর দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা সংখ্যালঘু শ্রমজীবী পরিবারের সদস্য হওয়ায় তদন্তে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সত্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত শেষে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, "গুজব নয়, নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে জরুরি।"
.jpeg)
No comments:
Post a Comment