বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, June 5, 2026

দিনাজপুরে সাঁওতাল তরুণকে 'মেরে ফেলার' হুমকি ও সংঘবদ্ধ হামলা, নারী সদস্যরা লাঞ্ছিত

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের শিক্ষিত তরুণ ও সংগঠক ফিলিমন হেমব্রম (২৭)-এর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার পরিবারের নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে সকালে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বুল্লির মোড় এলাকায় সাইদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ফিলিমনের পথরোধ করেন এবং মোটরসাইকেলের নিচে হাঁস মারা পড়ার অভিযোগ তোলেন। ফিলিমন তা অস্বীকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি এ সময় তিনি "একটা সাঁওতালকে মেরে ফেললে কী হবে?" বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এ কথার পরই স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরে পরিবারের সদস্যরা এসে চাবি ফেরত চাইলে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু ওই দিন রাতেই আপোষ-মীমাংসার কথা বলে বুল্লির মোড় বাজারে ডেকে নিয়ে ফিলিমনের ওপর বাঁশের লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
এজাহারে বলা হয়েছে, ফিলিমনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার মা, বোন ও ফুপুসহ পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি ৩০ মে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান।
পরে ফিলিমন হেমব্রম ১০ জনের নাম উল্লেখ করে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন— সাইদুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম, আজাদুল ইসলাম, রেজোয়ান ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম (অপর), মনিরুল ইসলাম, কামাল ইসলাম, দিলদার হোসেন ও রাবেয়া খাতুন। তবে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় আদিবাসী নেতারা বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে একজন সচেতন আদিবাসী তরুণকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। "একটা সাঁওতালকে মেরে ফেললে কী হবে?"— এমন বক্তব্য প্রমাণ করে এটি সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আদিবাসী সম্প্রদায় প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন তারা। স্থানীয় সচেতন মহলও বলছেন, এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের জন্য পরীক্ষা, তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। 

No comments:

Post a Comment

"
"