বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, June 8, 2026

দিপু হত্যার ৬ মাস: স্মৃতি বুকে আগলে বিচারের আশায় দিন গুনছে পরিবার

ময়মনসিংহের আলোচিত দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পরিবারের সদস্যদের শোক এতটুকু কমেনি। তাদের কাছে মনে হয়, ঘটনাটি যেন সেদিনই ঘটেছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা আর বিচার পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষা বুকে নিয়েই দিন কাটছে স্বজনদের।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার এক পোশাক কারখানায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে ও আগুন ধরিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০-১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। এ পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
দিপুর মৃত্যুতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন তারা। স্ত্রী মেঘনা রানী ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে মানসিক শোক ও দায়িত্ব— দুই চাপেই ক্লান্ত। তিনি বলেন, "শ্বশুর-শাশুড়ি আর পরিবারের সবাই আমার পাশে আছেন। তবু স্বামীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। আমি তার হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
দিপুর মা এখনো ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন। তিনি বলেন, "ঘরের প্রতিটি কোণে ওর স্মৃতি। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেকে নিয়ে, সব ভেঙে গেছে। এখন শুধু মৃত্যুর আগে ছেলের বিচার দেখে যেতে চাই।"
বাবা রবি চন্দ্র দাস বলেন, "সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় বোঝানো যায় না। দিপুই সংসারের হাল ধরেছিল, এখন সব বন্ধ।"
তদন্ত সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণ করে অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তোয়াবুল ইসলাম খান বলেন, "গ্রেপ্তার ২৯ জনই এখন কারাগারে। ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে, বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে।"
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলাটির ছায়াতদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে ডিবির একটি বিশেষ টিম কাজ করছে।
জেলা জজকোর্টের পিপি আনোয়ার আজিজ টুটুল বলেন, "এখনো কোনো আসামি ময়মনসিংহের আদালত থেকে জামিন পাননি। উচ্চ আদালত থেকে দুজন জামিন পেলেও পরে তা বাতিল হয়। আমরা চেষ্টা করছি, যেন কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।"
জেলা হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক ডা. এনসি পাল বলেন, "এমন নৃশংস ঘটনা কোনো সুস্থ মানুষ মেনে নিতে পারে না। আমরা প্রিয় মানুষটিকে ফেরত পাব না, কিন্তু যদি বিচার হয়, তবেই মনে হবে রাষ্ট্র আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।" সুষ্ঠু বিচার আর দ্রুত চার্জশিটের প্রতীক্ষায় দিন গুনছে দিপুর পরিবার।

No comments:

Post a Comment

"
"