বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, June 2, 2026

সিলেটে শিশু শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগে ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা-লুট, গ্রেপ্তার ৫

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় শিশু শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংঘবদ্ধ মব তৈরি করে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, মারধর, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রুবেল দাস বাদী হয়ে শাহপরান থানায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
রুবেল দাস জানান, তার বাবার ‘রানী স্টোর’ দোকানে প্রথমে কয়েকজন এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে। পরে আরও লোকজন নিয়ে তার বাবাকে বেধড়ক মারধর করে এবং দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস জানান, একটি শিশুকে ফ্রিজের সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে বলাকেই কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলা হয়। পরে শিশুটির মা ও আরও কয়েকজন এসে দোকানে হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এবং তা যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব বলেন, "ঘটনার পর আমরা হাসপাতালে ভুক্তভোগীকে দেখতে যাই। প্রশাসন জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পূর্বে টাকা বা বাকি পণ্য না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে।" তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজে যৌন হয়রানির কোনো প্রমাণ নেই। গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বাকি সংক্রান্ত বিরোধের তথ্যও পাওয়া গেছে।"
তিনি জানান, ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। মব সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন।
এর আগে সিলেট জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী হাসপাতালে আহত ব্যবসায়ীকে দেখতে যান এবং ঘটনাকে পরিকল্পিত মব সহিংসতা উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

No comments:

Post a Comment

"
"