পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী দেবী মন্দির চরম অবহেলা ও নদীভাঙনের মুখে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই ধর্মীয় কেন্দ্রটি আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পথে।
স্থানীয় সূত্র ও জনশ্রুতি জানায়, আনুমানিক ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি ছিল এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উপাসনালয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু। দুর্গাপূজা, বারুণী স্নানসহ নানা ধর্মীয় উৎসবে এখানে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটত, মন্দির ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো।
কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্য আজ ম্লান। মন্দিরের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেয়ালজুড়ে বিশাল বটগাছের শিকড় ছড়িয়ে পড়েছে, শিকড়ের চাপে দেয়াল ও গম্বুজ ফেটে গেছে। ইট ক্ষয়ে গেছে, প্লাস্টার খসে পড়েছে, পুরো চত্বর এখন আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার বা পরিচর্যা না হওয়ায় স্থাপনাটির ঐতিহাসিক সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে এসেছে নদীভাঙন। নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও ভাঙনের কারণে মন্দিরের আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই প্রাচীন স্থাপনা একদিন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।এলাকাবাসী বলছেন, "দয়াময়ী মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাক্ষী। এটি হারিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি থেকে বঞ্চিত হবে।"
স্থানীয় সচেতন মহল ও ঐতিহ্যপ্রেমীরা মন্দিরটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তিনশ বছরের এই নিদর্শনকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment