বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ‘ভালোবাসা ও আন্তরিকতা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব’— এমন বার্তা দিয়ে আজ শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছেছেন। সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদীসহ তিনি ঢাকায় আসেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতায় নেতাজি ভবন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার একমাত্র অগ্রাধিকার বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের অভিন্ন সীমান্ত, কিন্তু স্বপ্নও অভিন্ন। একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা, তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ২০ কোটি ও ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ— এই ১৬০ কোটিই আমাদের ভাই-বোন, তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নেতাজির আশীর্বাদ, ভারতের মানুষের শুভকামনা ও বাংলাদেশের সমর্থন আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।”
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে লেটার্স অব ক্রিডেনশিয়ালস গ্রহণ করেন ত্রিবেদী। এপ্রিলে তার নিয়োগ ঘোষণার পর থেকেই এটি গুরুত্ব পায়, কারণ তিনি একজন পেশাদার কূটনীতিক নন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পরিচিত মুখ ত্রিবেদী ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন। বাংলা ভাষায় সাবলীল ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি-সংস্কৃতির গভীর জ্ঞানের অধিকারী হওয়ায় তাকে ঘিরে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছান তিনি। আগমন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রোটোকলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখন ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্রিডেনশিয়ালস পেশের পর পুরোদমে মিশন শুরু করবেন দীনেশ ত্রিবেদী। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দিল্লি একজন রাজনীতিককে পাঠিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাইছে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment