বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, June 1, 2026

যশোরের এগারো শিব মন্দির: এক রাজকন্যার বেদনায় গড়া সনাতনী সৌধ

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ভৈরব নদের শান্ত তীর ঘেঁষে প্রায় চারশ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক এগারো শিব মন্দির। এটি কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নয়, এক করুণ রাজকন্যার জীবনকথা আর শিবভক্তির গভীর প্রকাশ বহন করে চলেছে।
ইতিহাস ও জনশ্রুতি বলে, সতেরো শতকের মাঝামাঝি সময়ে রাজা নীলকণ্ঠ রায় তার একমাত্র কন্যা অভয়ার জন্য এই এগারোটি শিব মন্দির নির্মাণ করেন। নড়াইলের জমিদারপুত্র নীলাম্বর রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় অভয়ার, কিন্তু বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিধবা হন। তৎকালীন সমাজে বিধবার পুনর্বিবাহের পথ বন্ধ থাকায় অভয়া মহাদেব শিবের আরাধনায় আত্মনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। কন্যার এই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে রাজা প্রাসাদের কাছেই গড়ে তোলেন এগারোটি মন্দির। কথিত আছে, কন্যার নামানুসারেই এলাকাটি 'অভয়ানগর' এবং পরে 'অভয়নগর' নাম পায়।
প্রায় ৬০ একর জমির ওপর বিস্তৃত মন্দির চত্বরের বিন্যাসে অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী লক্ষ করা যায়। উত্তর ও পশ্চিমে চারটি করে, পূর্বে দুটি এবং দক্ষিণের প্রবেশপথের পাশে একটি মন্দির অবস্থিত। চুনা-পাথর, সুরকি আর পোড়ামাটির ইটে নির্মিত এসব মন্দিরের দেয়ালে পোড়ামাটির কারুকাজ ও নকশা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এগারোটির মধ্যে মাঝখানের মন্দিরটি আকারে বড়, এটিই প্রধান মন্দির হিসেবে বিবেচিত।
সময়ের সঙ্গে কিছু অংশ জীর্ণ হয়ে পড়লেও মন্দিরগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কখনো ম্লান হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। সাম্প্রতিক সংস্কার কাজের মাধ্যমে স্থাপনাটির সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত, পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীরা এখানে আসেন। মহাদেবের আরাধনার পাশাপাশি তারা প্রত্যক্ষ করেন বাংলার প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ভক্তি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে এগারো শিব মন্দির সনাতন ঐতিহ্যের এক গর্বিত প্রতীক হয়ে কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

 

No comments:

Post a Comment

"
"