বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বোয়ালিয়া ভ্যানস্ট্যান্ড এলাকায় হিন্দু ব্যবসায়ী রিপন মন্ডল (৩৫) ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে সংঘটিত এ হামলায় রিপন মন্ডল গুরুতর আহত হন। হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার মা চারুলতা মন্ডল, ভাই নিপুণ মন্ডল এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সৌমেন মজুমদারও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকালবেলা ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে রিপন মন্ডলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ অর্থ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় রিপন মন্ডলকে প্রথমে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শিমুল সাহা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আহত ব্যবসায়ীর খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সংগঠনের খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশনা দেন।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি উজ্জল ব্যানার্জী ও বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য সাহার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিপন মন্ডলকে দেখতে যান। এ সময় প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় হরিজন ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক ও খুলনা মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস, খুলনা মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি সুশীল দাস, ছাত্র ঐক্য পরিষদ খুলনা মহানগর শাখার সদস্য দিব্য সাহাসহ স্থানীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে আহত রিপন মন্ডলের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন, তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে চিতলমারী থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দিনের আলোতে একজন ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের ওপর সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় পুরো চিতলমারী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সমাজ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment