নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ বিগ্রহ জিউ মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত ১৬ জুলাই দিনের বেলায় মন্দিরের উত্তর পাশের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বকুল চন্দ্র দাস জানান, রথযাত্রা উপলক্ষে ভক্তরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকাকালে পাগলা এলাকার মো. মামুনুর রশিদ, মো. মাছুম ও কাউছারসহ ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মন্দিরের উত্তর পাশের দেয়াল ভেঙে প্রবেশ করে এবং ফলজ, ফুলজ ও অন্যান্য গাছ কেটে ফেলে।
মন্দির কমিটির অভিযোগ, ভক্তরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের মারধর করেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে প্রায় ৯২ বছর ধরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। অভিযোগে বলা হয়, ১৯৩৪ সালে নিবন্ধিত দেবোত্তর দলিলের মাধ্যমে ৪৪ শতাংশ জমি মন্দিরের নামে দান করা হয়। বর্তমানে জমি দখল ও দলিল জালিয়াতি নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা পান। পরে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে ভায়োলেশন মিস কেসও দায়ের করা হয়েছে, যা বিচারাধীন।
অভিযুক্ত মাছুম আহমেদ অবশ্য দাবি করেন, তিনি ২০১৭ সালে ১৪ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন এবং ওই জমি ব্যক্তিগত সম্পত্তি, দেবোত্তর নয়। তিনি বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে বিরোধের সময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment