সমাজ ও জাতপাতের প্রচলিত গোঁড়ামি এবং শত বছরের পুরনো সামাজিক ট্যাবুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রংপুরের হরিজন সম্প্রদায়ের পতন বাঁসফোর।
শিল্পের কোনো জাত বা সীমানা হয় না—
এই সত্যকে সামনে রেখে তিনি নিজ হাতে তৈরি করছেন শারদীয় দুর্গোৎসবের দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাঁর এই সৃজনশীল ও সাহসী পদক্ষেপ শুধু রংপাতা বা শিল্পাঙ্গনেই নয়, বরং পুরো সমাজে বয়ে এনেছে সাম্য ও অন্তর্ভুক্তির এক শক্তিশালী বার্তা।
যুগে যুগে আমাদের সমাজে হরিজন সম্প্রদায়সহ প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পেশা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। সমাজের প্রচলিত এই সংকীর্ণ মানসিকতার বেড়াজাল ছিন্ন করে মূলধারার শিল্পকর্মে জড়িয়ে পড়া চাট্টিখানি কথা নয়। পতন বাঁসফোর সেই অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা, মেধা ও শ্রম থাকলে যেকোনো মানুষ তার মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারেন।
খড়, বাঁশ, মাটি আর সুতলির নিখুঁত বুননে যখন একের পর এক তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব, তখন তার প্রতিটি আঁচড়ে যেন লুকিয়ে রয়েছে পতন বাঁসফোরের জীবনসংগ্রাম ও বিজয়ের গল্প।
তাঁর এই কাজে স্থানীয় সচেতন মহলেও দারুণ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই বলছেন, হরিজন সম্প্রদায়ের একজন সদস্যের এমন শৈল্পিক কর্মপ্রয়াস সমাজে জাতভিত্তিক বৈষম্য ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পতন বাঁসফোরের মতো এমন উদ্যোগগুলো সমাজে মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ঘটাতে সাহায্য করে। এটি কেবল একটি প্রতিমা তৈরির কাজ নয়, এটি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি নতুন লড়াই।
রংপুরের এই শ্রমজীবী মানুষের শিল্পকর্ম আজ শুধু একটি সংবাদ নয়, বরং সাম্যবাদী সমাজ গঠনের এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment