চাঁদপুর, ৩ নভেম্বর ২০২৬: দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ইসকনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং চাঁদপুর শহরের মুনসেফপাড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী মহাপ্রভু নীলাচল মন্দির বন্ধের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, চাঁদপুর জেলা শাখা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। পরে সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেন। মানববন্ধনে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির দেশ। তবে সম্প্রতি ইসকনের (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক কার্যক্রম এবং দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী অপতৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।
হেফাজত ইসলাম চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি নূরে আলমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহবুবুর রহমান, সহ-সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আবুল হাসানাত, জেলা প্রচার সম্পাদক হাফেজ কারী রশিদ আহমদ, শহর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। চাঁদপুরে আমরা সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করছি। এখানকার সনাতনী ভাই-বোনদের সঙ্গে আমাদের ভাতৃত্ব ও সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের বিতর্কিত ও দেশবিরোধী কার্যক্রম নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।’ তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইসকনের কার্যক্রমের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নীলাচল মন্দিরের কার্যক্রম, অবস্থান, অনুমোদন ও আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ধর্মীয় সংগঠনের আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের আইন, সংবিধান ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্মারকলিপিতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ সময় হেফাজতে ইসলাম চাঁদপুর জেলা শাখা ও বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment