নোয়াখালীর ইস্কন মন্দিরসহ সারাদেশে বিভিন্ন সময় এবং শারদীয়া দুর্গাপূজার প্রাক্কাল থেকে অদ্যাবধি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও হত্যা, মন্দির, বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে আজ ২১ অক্টোবর ২০২১ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি খুলনা মহানগরীর পিকচার প্যালেস মোড় হতে আরম্ভ করে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোলকমনি শিশু পার্কে এসে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে খুলনা সদর থানা পূজা পরিষদের সভাপতি বিকাশ কুমার সাহা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু। সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব সাহা লবের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি বরার্ট নিক্সন ঘোষ, মহানগর পূজা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে মিঠু, মহানগর পূজা পরিষদের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য উজ্জল ব্যানার্জী, তাপস সাহা, পঙ্কজ দত্ত, বাবলু বিশ্বাস গৌরাঙ্গ সাহা, সাংবাদিক বিমল সাহা, ভবেশ সাহা, সুশান্ত ব্যানার্জী, বাবু শীল, রবীন দাস, সুজিত মজুমদার, সোনাডাঙ্গা থানা পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রামচন্দ্র পোদ্দার, সদর পূজা পরিষদের উজ্জল রায়, স্বপন চক্রবর্ত্তী, মাণিক শীল, অমিত কর্মকার, পাপ্পু সরকার, সজল দাস, রাজ কুমার শীল, ছোটন শীল, বিদ্যুৎ নন্দী আপন, পিনাকী সেন, প্রদীপ সেন, সুজয় সাহা, নিতাই সাহা, চন্দন দে, বাপ্পি দাস, মদন দাস, দেবব্রত সরকার, দ্বিপ্র দাস, ডাঃ কে পি রায়, অসীম শীল, প্রণব চক্রবর্ত্তী, অশোক ঘোষ, দুলাল সরকার, বিমল কৃষ্ণ সাহা, মিলন সাহা কুটি, রাজন দাস, তাপস তালুকদার, রণজিৎ শীল, ননীগোপাল দে, সোনপট্টী পূজা কমিটির সভাপতি শ্যাম ভক্ত, অজয় বকসী, অসীত চক্রবর্ত্তী, শ্যাম পোদ্দার, কল্যাণ শর্মা, বলরাম ঘোষ, রামচন্দ্র মল্লিক, বাপ্পী বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ দত্ত, অরুণ দত্ত, ঝণ্টু, হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কুমার লাল, সুশীল দাস, বাবু রাম, কার্তিক রাম, সোনে রাম, গুলজার রাম, তপন বাছফোড়, খুলনা ব্রাহ্মণ সংসদের সভাপতি রণজিৎ মুখোপাধ্যায়, সুরেশ চক্রবর্ত্তী, লিটন চক্রবর্ত্তী, বিশ্বজিৎ কাঞ্জিলাল, বিধান রায়, গোপাল দত্ত, দিপংকর শিকারী, শুভ দে, মিঠুন সাহা, সৌরভ দত্ত, সাগর সাহা, মদন দে, কাজল সাহা, সুদেব শীল, চন্দন সরকার, মিঠুন তালুকদার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শারদীয়া দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমিল্লার একটি মন্দিরে ধর্ম অবমাননার ধুয়া তুলে মৌলবাদীগোষ্ঠী যে সহিংস ঘটনার সৃষ্টি করেছে সেই কথিত কুচক্রীকে গ্রেফতারের পরেও নোয়াখালী ইস্কন মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর-লুটপাটসহ মন্দিরে অবস্থানরত প্রভুদের উপর অমানুসিক নির্যাতন করা হয়, যার ফলে এক প্রভু মৃত্যুবরণ করেন। শুধু তাই নয় নোয়াখালী রামকৃষ্ণ মিশনসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ, নোয়াখালী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ভোলা, বরগুনা, খুলনার কয়রা এবং ঢাকাসহ সর্বশেষ রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু পল্লীতে ৬৫টি বাড়িঘর ও মন্দির ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। বক্তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নি সংযোগ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মাধ্যমে বিভিন্ন মন্দিরের পুরোহিত ও ভক্তদের হত্যা, নারী ও শিশুদের ধর্ষণসহ হত্যার বিচার চেয়ে সরকারের নিকট এ সমস্ত সহিংতা বন্ধ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক কঠোর শাস্তির দাবী জানান।
No comments:
Post a Comment