বাড়িতে কৃষ্ণের স্ত্রী যমুনা রানী রাজবংশী গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন। এ ছাড়া একই অভিযোগ করেন কয়েকজন প্রতিবেশীও।
এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার তরা বাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে কৃষ্ণ রাজবংশীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
যমুনা রানী বলেন, মাছ চুরির সন্দেহে তাঁর স্বামীকে তরা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয়ে আটকে রেখে গতকাল মারধর করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে এসে কৃষ্ণকে ছাড়িয়ে নিতে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ওই টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
যমুনা রানীর দাবি, পরে তিনি নিজেই বাজার কমিটির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে স্বামীকে মারধর করতে দেখেন। কথার এই পর্যায়ে যমুনা রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। এত ট্যাকা পামু কনে? ওই অফিসে গিয়্যা কান্নাকাটি করছি, তাগো (কমিটির লোকজন) পায়ে ধরে কানছি। তারপরও আমার স্বামীরে মারধর করছে। কত কইল্যাম, আপনারা তাঁরে পুলিশে দেন, তাও দিল না! ওরা আমার স্বামীরে মাইরা ফ্যানের লগে ঝুলাইয়া রাখছে, আমারে বিধবা করছে, আমার দুই পোলা–ম্যায়ারে এতিম করছে। আমি তাগো শাস্তি চাই।’
কৃষ্ণ রাজবংশী মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া মহল্লার ক্ষুদিরাম রাজবংশীর ছেলে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির জলাশয়ে জাল টানা ও মাছ ধরার কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে তরা বাজারে ট্রাক থেকে মাছ নামানোর কাজও করতেন। তাঁর এক ছেলে ও মেয়ে আছে।
কৃষ্ণের মাসতুতো ভাই লালচান রাজবংশী বলেন, কৃষ্ণকে ছেড়ে দিতে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে বের হন কৃষ্ণ। সকালে মাছ চুরির অভিযোগে তাঁকে ও আরও একজনকে আটক করে বাজার কমিটির লোকজন। পরে অন্যজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কৃষ্ণকে কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। দুপুরে কার্যালয়ের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment