নারায়ণগঞ্জের ঋষিপাড়া বা দলিত বসতির সনু রানী দাস জেলার ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ নির্বাচিত হয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য ও প্রতিকূলতা জয় করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার এই স্বীকৃতি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি সমগ্র দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
শৈশব থেকেই নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়া সনু রানী কখনো হাল ছাড়েননি। বাল্যবিবাহের চাপ, শিক্ষার সীমাবদ্ধতা আর আর্থিক সংকটকে পেছনে ফেলে গড়ে তুলেছেন নিজের পরিচয়। বর্তমানে তিনি একজন সফল ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তিনি কাজ করছেন পিছিয়ে পড়া নারী ও দলিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন।
শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পেয়ে সনু রানী বলেন, "আমি চাই, কোনো মেয়েকে যেন শুধু জন্মপরিচয়ের কারণে পিছিয়ে থাকতে না হয়। প্রতিটি নারীর ভেতর সম্ভাবনা আছে, সুযোগ পেলে তারাও দেশ গড়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে।"
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ কর্মসূচিতে ‘অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরিতে জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হন তিনি। স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, সনুর এই সাফল্য প্রান্তিক নারীদের মূলধারায় আসার পথ দেখাচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য আত্মবিশ্বাসের বার্তা বয়ে এনেছে। এটি শুধু এক নারীর বিজয়গাথা নয়, বাংলাদেশের হাজারো প্রান্তিক নারীর স্বপ্ন দেখার ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment