সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে তিনটি মন্দির ও দুটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত দীপ্ত রায় ওরফে প্রিন্স রায়কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে দীপ্ত রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দীপ্ত রায় উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি গ্রামের বাসিন্দা ও চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে ফেসবুকে ওই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর বাদাঘাট বাজার ও আশপাশে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা গড়কাটি কালীমন্দির, দুর্গা মন্দির, নাটমন্দির এবং বাদাঘাট কালীমন্দিরসহ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালায় বলে জানিয়েছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গণেশ তালুকদার। প্রতিমা, আসবাবপত্র ও মন্দিরের সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযুক্তের মা কেতকি রানী রায় অভিযোগ করে বলেন, শত শত লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, মোটর, পানির ট্যাংকি লুট ও ভাঙচুর করেছে। পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের সদস্যরাও আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন, তারা অপরাধীর বিচার চাইলেও উপাসনালয় ও নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
এদিকে বুধবার সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মন্দির, বাড়িঘর বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর আছে বলেও জানান তিনি।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment