"জমির দলিল দে, নইলে জীবন দে"— এমন প্রকাশ্য হুমকি এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কয়েকটি সংখ্যালঘু পরিবারের জন্য। জমি দখল, মামলা নিতে অনীহা, অর্থের বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীরা সরাসরি দায়ী করছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে। এসব অভিযোগ স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগী আশাপূর্ণ মণ্ডল ও পশুরাম মণ্ডল পরিবারের দাবি, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের জন্য প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এক স্বজন বলেন, "সংখ্যালঘু বলেই হয়তো আমাদের জমি সহজ টার্গেট মনে করা হচ্ছে, কিন্তু বাপ-দাদার ভিটে ছাড়ব না।"
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বারবার এমন অভিযোগ ওঠায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। বিতর্কের আরেক কারণ— আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ। সূত্র জানায়, দুবাইফেরত এক প্রবাসী যুবক অপহরণের ঘটনায় আদালত ওসিকে তিন ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বললেও তা জমা না পড়ায় বিচারক শোকজ আদেশ জারি করেন। পরে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলার আসামি ইট-বালু ব্যবসায়ী সালাউদ্দিনকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে। সালাউদ্দিন দাবি করেন, "থানায় ১০ ঘণ্টা আটক রেখে শেষ পর্যন্ত টাকা নিয়েই ছাড়া পাই।" ভুক্তভোগী নারীও জানান, আপস-মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে, অথচ মামলার সুরাহা হয়নি।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, "একজন ওসির বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করে। মামলা নেওয়া ও তদন্তই থানার কাজ, আপস করানো নয়।"
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মাহবুব আলম দাবি করেন, "আমি নিয়মের বাইরে কিছু করি না। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।" এদিকে এসব ঘটনার সংবাদ প্রকাশ রুখতেও পক্ষ থেকে চাপ ও 'খারাপ পরিণতির' হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা পুলিশ সুপারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলছেন, এটি নাগরিকের আইনের প্রতি আস্থার প্রশ্ন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment