বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, August 3, 2026

মা জানেন না সংসারের হাল ধরা ছেলেটি আর নেই


​গত শনিবার কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন খুলনার তরুণ অক্ষর সৌভিক রায়। তবে মৃত্যুর দ্বিতীয় দিনেও তাঁর মা জানেন না যে তাঁর আদরের ছেলে আর বেঁচে নেই।
​পরিবারের স্বজন ও আত্মীয়রা শোকাবহ এই খবরটি তাঁর মায়ের কাছে গোপন রেখেছেন। তাঁকে শুধু জানানো হয়েছে যে সৌভিক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মা যখন বারবার আকুল হয়ে প্রশ্ন করছেন— "আমার ছেলে কোথায়? কখন ফিরবে?", তখন শোকে নির্বাক স্বজনরা মিথ্যা সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। তারা জানেন না কী করে জানাবেন, ছেলে সৌভিক আর কোনো দিন ফিরবে না।
​গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন মান্নান চটপটির গলির 'দেলন' ভবনের চতুর্থ তলায় সৌভিকদের ফ্ল্যাটে গেলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ দেখতে পাওয়া যায়। পুরো ঘরে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। কারও মুখে কোনো ভাষা নেই।
​জানা গেছে, সৌভিক অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে আনন্দভ্রমণে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণ মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় তীব্র শোক ও বিষাদে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে ৫০-৬০ ফুট আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়েন সৌভিক (৩০)। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
​নিহত অক্ষর সৌভিক খুলনা নগরীর কালীবাড়ী এলাকার সাবেক ব্যবসায়ী মৃত শেখর রায়ের ছেলে। তিনি খুলনা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, খুলনার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ভারতের গুজরাটের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকার একটি ভিসা এজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন।
​২০ ২০২১ সালে করোনা মহামারীতে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পুরো সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে সৌভিকের কাঁধে। ব্যাংকের ঋণের কারণে তাঁদের নিজেদের বাড়িটি বন্ধক থাকায় গত ছয় মাস আগে তাঁরা 'দেলন' ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে পুরো পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বর্তমানে তাঁর মা শুক্লা রায়, ছোট বোন শিখা রায় এবং দাদু ও দিদিমা এক ছাদের নিচে থাকেন।
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সৌভিক রায়সহ ১০ জনের একটি দল খুলনা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যান। প্যারাসেইলিং করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সৈকতে পর্যাপ্ত উদ্ধার ব্যবস্থা বা লাইফগার্ড ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন সঙ্গীরা।
​কক্সবাজার সদর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলা প্রশাসন থেকে আগেই সব ধরনের প্যারাসেইলিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করে অসাধু উপায়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


 

No comments:

Post a Comment

"
"