বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, October 7, 2026

চুয়েট থেকে হাইড্রোজেন বিমান গবেষণায়: দেবযানী ঘোষের আন্তর্জাতিক পথচলা


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে পড়াশোনা করে আন্তর্জাতিক বিমান প্রযুক্তির গবেষণায় জায়গা করে নিয়েছেন দেবযানী ঘোষ। চুয়েটের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া তাঁর প্রকৌশলী হওয়ার যাত্রা আজ জার্মানির হাইড্রোজেনচালিত বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।

দেবযানী ঘোষ ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড়ে ওঠেন। অপর্ণাচরণ উচ্চবিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা শেষে তিনি ভর্তি হন চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি চুয়েটে পড়াশোনা করেন।

চুয়েটে অর্জিত জ্ঞান তাঁকে নিয়ে যায় আরও বিশেষায়িত গবেষণার দিকে। বিদ্যুৎ, শক্তি রূপান্তর, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁর গবেষণার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। স্নাতক শেষে তিনি জার্মানিতে যান। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আরডাব্লিউটিএইচ আচেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে ইনফিনিয়ন টেকনোলজিস এজিতে ইন্টার্ন হিসেবেও কাজ করেন।

জার্মানির উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি কনভার্সন অ্যান্ড স্টোরেজে গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় দেবযানী যুক্ত হন এইচওয়াই৪ প্রকল্পের সঙ্গে। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম চার আসনের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত যাত্রীবাহী বিমান। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে বিমানটির প্রথম সফল উড্ডয়ন হয়।

এই প্রকল্পে দেবযানীর কাজ ছিল বিমানের বিদ্যুৎশক্তি ব্যবস্থাপনা ও পাওয়ার ইলেকট্রনিকস নিয়ে। উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল শূন্য নিঃসরণ হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন হাইব্রিড ধারণা, যেখানে ডিসি থেকে এসি বিদ্যুৎ রূপান্তর, সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা হয়। ফুয়েল সেল ও ব্যাটারিনির্ভর হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য এসি হাইব্রিড ব্যবস্থা এবং পাওয়ার ইলেকট্রনিকস নিয়ে তাঁর গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমানে তিনি জার্মানির এইচ২ফ্লাইয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং হাইড্রোজেন বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি হাইড্রোজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক চালনা ব্যবস্থা, ফুয়েল সেল প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

হাইড্রোজেনভিত্তিক বিমান প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বিমান চলাচলের নির্ভরতা কমানো। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয় না। ফলে সবুজ হাইড্রোজেন ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতের বিমান চলাচলকে আরও কম কার্বন নিঃসরণকারী করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম থেকে চুয়েট, চুয়েট থেকে জার্মানি, আর সেখান থেকে ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তি—দেবযানী ঘোষের এই পথচলা দেখায়, বাংলাদেশের একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।


 

No comments:

Post a Comment

"
"