বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, September 9, 2026

ঘুমের ওষুধ কেন ক্ষতিকর, দীর্ঘদিন সেবনে কী হতে পারে


রাতে ঘুম না এলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ সেবন শুরু করেন। শুরুতে এসব ওষুধ সাময়িকভাবে ঘুম আনতে সহায়তা করলেও দীর্ঘদিন নিয়মিত সেবন করলে নির্ভরতা তৈরি হওয়া এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা ঘুমের সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

চিকিৎসক ডা. হিমেল বিশ্বাসের মতে, ঘুমের ওষুধের অন্যতম ঝুঁকি হলো শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিছু ওষুধে একই মাত্রায় আগের মতো কার্যকারিতা নাও থাকতে পারে। তখন কেউ কেউ নিজের মতো করে মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে।

ঘুমের ওষুধের ধরন ও মাত্রাভেদে মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে কিছু মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও দিনের বেলার কর্মক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝিমুনি, ভারসাম্যহীনতা ও পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের পর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও তন্দ্রাভাব বা অবসাদ থাকতে পারে। এতে দিনের স্বাভাবিক কাজ, পড়াশোনা কিংবা গাড়ি চালানোর মতো কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।

কিছু ধরনের ঘুমের ওষুধ শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন বা ভুল মাত্রায় ব্যবহারে অন্যান্য অঙ্গের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

ঘুমের সমস্যা হলে কী করবেন?

ঘুমের সমস্যা হলেই সরাসরি ঘুমের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন অনিদ্রা থাকলে এর পেছনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সমস্যার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস করা, ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো, সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা উপকারী হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবন করা কিংবা মাত্রা বাড়ানো উচিত নয়। ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে হঠাৎ বন্ধ করার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ কিছু ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে।

No comments:

Post a Comment

"
"