পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির (এপিএস) ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় তাঁর ফেলো নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে মাত্র ১৫৩ জন এ সম্মাননা অর্জন করেছেন। নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশে কম্পিউটার-সচেতনতা ও বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারে অবদানের জন্য তাঁকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সরকার তাঁকে গুণী শিক্ষক সম্মাননায় ভূষিত করে।
এপিএসের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিউক্লিয়াস-নিউক্লিয়াস বিভব ব্যবহার করে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার সমাধানে অধ্যাপক বসাক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক, শিক্ষক ও সক্ষমতা উন্নয়নকারী হিসেবে বাংলাদেশে কম্পিউটার-সচেতনতা এবং বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারেও ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি পদার্থবিজ্ঞানের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও পেশাজীবী সংগঠন। এ সংগঠনের ফেলো নির্বাচিত হওয়া পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অবদান ও বিজ্ঞানীসমাজে বিশেষ ভূমিকার মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধ্যাপক বসাকের হাতে গুণী শিক্ষক সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র ও দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার স্বীকৃতি অধ্যাপক বসাকের দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনের অর্জনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
গবেষণা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষার অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অবদান রয়েছে অধ্যাপক বসাকের। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
গুগল স্কলারে অধ্যাপক বসাকের গবেষণা প্রোফাইলে ১ হাজার ৭১৫টি সাইটেশন, ২৬টি এইচ-ইনডেক্স এবং ৬২টি আই-১০ ইনডেক্স রয়েছে। তবে গবেষণার গুরুত্ব নির্ধারণে শুধু সাইটেশন বা সংখ্যাগত সূচক নয়, গবেষণার মৌলিকত্ব, গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ।
অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাকের এপিএস ফেলো নির্বাচিত হওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে অনেকে তাঁর গবেষণা ও শিক্ষকতায় অবদানের প্রশংসা করছেন।
শিক্ষার্থী মারুফ হাসান বলেন, ‘অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক স্যারের এ অর্জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর এ স্বীকৃতি প্রমাণ করে, গবেষণার মান ও অবদানই একজন বিজ্ঞানীর প্রকৃত পরিচয়।’ আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘একজন শিক্ষক যখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পান, তখন তা শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করে।’

No comments:
Post a Comment