বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Friday, November 6, 2026

বিচারহীনতার দশ বছর: সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে সাঁওতালদের ভিটায় কার স্বার্থে ইপিজেড?

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে উচ্ছেদের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে তিন সাঁওতাল পুরুষ—মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম নিহত হন। অন্তত ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই ঘটনার জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের মূল দাবি পূরণ হয়নি।

অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলেও অভিযোগকারীরা তদন্তের বিষয়ে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, তদন্তে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলেও হালনাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা হয়নি। ফলে মামলার বিচারকাজও শুরু হয়নি।

সাঁওতাল জনগোষ্ঠী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, রংপুর চিনিকলের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় শর্ত ছিল—ঘোষিত উদ্দেশ্যেই জমি ব্যবহার করতে হবে এবং উদ্দেশ্য না থাকলে জমি মূল মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদের পূর্বপুরুষের ভিটে ও ফসলের জমির কিছু অংশ প্রভাবশালী স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে ইজারা দেয়; মূল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

এর মধ্যে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সাঁওতালদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের প্রশ্ন, যেখানে হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি এবং ভূমির বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি, সেখানে কীভাবে একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়? সাঁওতাল প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রকল্পের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে অর্থবহ কোনো পরামর্শ করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের জাতীয় স্বার্থ থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বাধীন ও পূর্বাবোহিত সম্মতি (FPIC) নীতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের চারটি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা—অধিকতর তদন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমায় সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা; ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন; ভূমির রেকর্ড ও দাবি যাচাইয়ে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া; এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি ও অর্থবহ পরামর্শ ছাড়া বিতর্কিত জমিতে ইপিজেডের লক্ষ্যে অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া।


 

No comments:

Post a Comment

"
"