বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, July 27, 2026

কালের সাক্ষী ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা রাজবাড়ির সাত মন্দির: হারিয়ে যাওয়া রাজবংশের ইতিহাস


ঝিনাইদহ, ২৭ জুলাই ২০২৬: একসময় রাজা, রাজ্য, প্রাসাদ আর সৈন্যবাহিনী ছিল। কালের বিবর্তনে সব হারিয়ে গেলেও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা গ্রামের সাতটি প্রাচীন মন্দির। কালীমাতা, লক্ষ্মী, গণেশ, দুর্গা, তারা, বিষ্ণু ও রাজেশ্বরী—এই সাত মন্দির এখনো বহন করছে হারিয়ে যাওয়া নলডাঙ্গা রাজবংশের স্মৃতিচিহ্ন।

ঝিনাইদহ সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং কালীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার উত্তরে বেগবতী নদীর তীরে অবস্থিত এই স্থাপনাগুলো। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি মন্দির সংস্কার করা হয়েছে। একটি মন্দিরের কাজ আংশিক হয়েছে, বাকি দুটি এখনো সংস্কারের অপেক্ষায়।

ইতিহাসের পাতা থেকে

জেলা তথ্য অফিস প্রকাশিত ‘ঝিনাইদহ জেলার ইতিকথা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচশ বছর আগে বিষ্ণুদাস হাজরার হাত ধরে নলডাঙ্গা রাজবংশের সূচনা হয়। ১৫৯০ সালে মোঘল সুবেদার মানসিংহ তার আতিথেয়তায় সন্তুষ্ট হয়ে পাঁচটি গ্রাম দান করেন। সেই জমিদারি থেকেই গড়ে ওঠে নলডাঙ্গা রাজবাড়ি। রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেবরায়ের আমলেই মন্দিরগুলো পূর্ণতা পায়।

১৮৭৯ সালে জমিদারির দায়িত্ব নেওয়া রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেব রায় ১৯১৩ সালে ‘রাজা বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন। শিক্ষার প্রসারে তিনি ‘ইন্দু ভূষণ’ ও ‘মধুমতি’ বৃত্তি চালু করেন এবং ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ বিদ্যালয়। ১৯৫৫ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে শেষ হয় নলডাঙ্গা রাজবংশের অধ্যায়।

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে

প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এসব মন্দির দেখতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ দাস বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকার গর্ব। আরও সংস্কার ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো হলে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসবেন এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।’ পুরোহিত প্রান্ত কুমার জানান, তিনি নিয়মিত মন্দিরের দেখভাল করেন এবং যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানান।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘নদীর ধারে অবস্থিত মন্দিরগুলো যাতে আরও সুন্দর করা যায়, সে বিষয়ে শিগগির কাজ শুরু করব।’

No comments:

Post a Comment

"
"