লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৮ জুলাই ২০২৬: ক্যানসার নামটাই যেন আতঙ্কের। তবে বেশিরভাগ ক্যানসারই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই ভালো সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে সময়মতো রোগ নির্ণয় জীবন বাঁচাতে পারে—কিন্তু এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে অনেক সময় সাধারণ রোগ ভেবে ভুল করা হয়।
সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মনদীপ সিং মালহোত্রার মতে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেতের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
যে তিনটি লক্ষণে সতর্ক হবেন
১. মুখে দীর্ঘস্থায়ী ঘা (২-৩ সপ্তাহের বেশি): সাধারণত পুষ্টির অভাব, অ্যাসিডিটি বা ভুল ডেন্টারের কারণে ঘা হলে কিছুদিনের মধ্যেই সেরে যায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরও যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ঘা না শুকায়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা ও টিস্যু বায়োপসি করানো উচিত। এটি প্রি-ক্যানসার বা প্রাথমিক মুখের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
২. কণ্ঠস্বর ভাঙা বা কর্কশ হওয়া: সাধারণ সংক্রমণে গলার স্বর পরিবর্তন হয়, কিন্তু তা অল্পদিনে ঠিক হয়। তবে ধূমপায়ী বা তামাক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে যদি নিয়মিত চিকিৎসার পরও কণ্ঠস্বর ভাঙা থাকে, তবে তা গলা বা স্বরযন্ত্রের (ল্যারিংস) ক্যানসারের ইঙ্গিত দিতে পারে। এক্ষেত্রে ল্যারিঙ্গোস্কোপিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
৩. ঘাড়ে গুটলি বা ফোলাভাব: এটি সাধারণত রোগের পরবর্তী ধাপের লক্ষণ, অর্থাৎ ক্যানসার লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত। অনেক সময় মূল টিউমারটি আগে থেকেই বিদ্যমান থাকে, কিন্তু ঘাড়ের গুটলি দেখেই রোগী সচেতন হন। তাই এটিকে প্রথম সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাথমিক শনাক্তকরণে উন্নত চিকিৎসা সম্ভব
ডা. মালহোত্রা জানান, রোবোটিক ও লেজার-অ্যাসিস্টেড সার্জারির উন্নতির ফলে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। এই ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে কথা বলা ও খাবার গিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অক্ষুণ্ন রেখেই টিউমার অপসারণ করা সম্ভব।
তাই মুখের ঘা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা ঘাড়ে ফোলা ভাব—এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো শনাক্তকরণই পারে ক্যানসারকে জয় করার প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment