নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একটি পরিবারের বসতভিটা জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের মুশুরি ঠাকুরবাড়ি এলাকায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাধা দেওয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে আহত করারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য লিটন অধিকারী জানান, রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুশুরি মৌজার ৫৬২, ৫৮৯ ও ৫৬৪ নম্বর দাগের জমি তার বাবা শান্তি অধিকারী ও কাকা চিন্তাহরণ অধিকারী কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। বসতভিটার ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশী বিশ্বজিৎ অধিকারীদের সঙ্গে তাদের ২৬ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে এবং জমিটি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোমবার সকালে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুন্নবী ভূঁইয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারই চাচাতো ভাই ও সামাউন গ্রুপের প্রধান সামাউন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও স্টিলের পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বসতভিটায় যায়। পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি মেপে সীমানা খুঁটি গেড়ে দখলের চেষ্টা করা হয়।
তাদের অভিযোগ, এ সময় বাধা দিলে লিটন অধিকারী, তার বড় ভাই দুলাল অধিকারী ও বৃদ্ধ বাবা শান্তি অধিকারীকে মারধর করে আহত করা হয়। হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি গুম করার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সামাউন ভূঁইয়া বলেন, অক্ষয় অধিকারী নামের একজনের কাছ থেকে জমি কিনেছেন এবং ন্যায়সংগতভাবেই জমিতে গিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুন্নবী ভূঁইয়া বলেন, সামাউন ভূঁইয়া তার চাচাতো ভাই হলেও তাদের সম্পর্ক ভালো নয়। বসতভিটা দখলের বিষয়টি তিনি এইমাত্র জেনেছেন। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জমি দখলের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, ‘আমি প্রশাসক হিসেবে আমার কাছে বিচার চাইলে সঠিক বিচার করব।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ওই পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আব্দুল বিন শফিক জানান, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment