কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে ভয়াবহ হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সংঘটিত ওই হামলায় রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০টি বসতঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা। তারা দ্রুত বিচার শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রামুর পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফেও বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলা চালানো হয়। উত্তম বড়ুয়া নামে এক বৌদ্ধ যুবকের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাতের অন্ধকারে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার, ৩০টি বসতঘর এবং উখিয়া-টেকনাফের সাতটি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া আরও ছয়টি বৌদ্ধ বিহার ও শতাধিক বসতঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার ও বসতঘর পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৪ বছরে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরে এলেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় ও ধোঁয়াশা কাটেনি বলে জানিয়েছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা। প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে পুনঃতদন্তের দাবিও জানিয়েছেন অনেকে। স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে রামুর বৌদ্ধ বিহারগুলোতে সরকারি নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে হামলার ভয়াবহ দিনটি স্মরণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে রামু বুড্ডিস্ট সোশ্যাল মুভমেন্ট বাংলাদেশ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধ উপাসনা, পতাকা উত্তোলন, অষ্টশীল গ্রহণ, চিত্রাঙ্কন ও চিত্র প্রদর্শনী এবং চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনায় মোট ২০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে বাদীর সম্মতিতে একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে বাকি মামলাগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ শীলপ্রিয় মহাথের বলেন, ‘২০১২ সালের এদিনে সংঘটিত সহিংসতার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা সঠিক বিচার পাইনি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ, রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি নিরীহ কাউকে যেন বিচারের নামে হয়রানি করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।’
কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, ‘রামু সহিংসতার ১৪ বছরে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরে এসেছে। রামুর বৌদ্ধরা দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার পেয়েছেন। কিন্তু ঘটনার ১৪ বছর পরও মামলার কার্যক্রম প্রাথমিক পর্যায়ে থমকে আছে। পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিলেও একটি মামলাও নিষ্পত্তি হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘রামু সহিংসতার মতো আর কোনো ঘটনা যাতে বাংলাদেশে না ঘটে, সে জন্য এ ঘটনার একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।’
মামলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ইউনুছ জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা ১৮টি মামলার মধ্যে ১১টির সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। উখিয়ায় চারটি মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাক্ষীরা নিয়মিত আদালতে আসেন না। এ কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। ফলে মামলার কার্যক্রমও এগোচ্ছে না।’
.jpeg)
No comments:
Post a Comment