শারদীয় উৎসবের রঙে রঙিন হতে শুরু করেছে শিল্পনগরী খুলনা। কাশফুলের দোলা আর ঢাকের বাদ্যের অপেক্ষায় যখন ভক্তদের হৃদয় উন্মুখ, ঠিক তখনই খুলনাবাসীর শারদীয় আনন্দে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘সাহেবের কবরখানা পূজা কমিটি’। খুলনা অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই মণ্ডপটি এবার পা রাখতে যাচ্ছে ১২৯তম বর্ষে। দীর্ঘ ১২৮ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পেছনে ফেলে ১২৯ বছরের এই বিশেষ মাইলফলকটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজকরা এবার সাজাচ্ছেন এক অনন্য ভুবন, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা সেই ‘ভাইরাল কিউট দুর্গা’ প্রতিমা।
প্রতিটি উৎসবেই মানুষ নতুন কিছুর তৃষ্ণা অনুভব করে। আর সেই তৃষ্ণা মেটাতেই এবার প্রতিমা গড়নে আনা হয়েছে অভূতপূর্ব এক স্নিগ্ধতা ও মাধুর্য। ঐতিহ্যবাহী রূপের পাশাপাশি মৃৎশিল্পীর তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গার প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এমন এক অপার্থিব মায়া ও মিষ্টতা, যা দেখা মাত্রই যে কারো মন এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে উঠবে। শুধু প্রতিমাতেই নয়, পুরো মণ্ডপজুড়ে থাকছে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জার খেলা এবং আবহ তৈরিতে থাকছে বিশেষ নান্দনিকতা। মণ্ডপের প্রতিটি কোণায় থাকবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো আবহ, যা উৎসবের আবহকে করে তুলবে আরো বেশি গভীর ও মহিমাময়।
আয়োজক কমিটির সদস্যরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, খুলনা মহানগরী ও পুরো জেলা জুড়ে যেসব পুজো অনুষ্ঠিত হয়, তার মধ্যে নান্দনিকতা, আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের সেরা মেলবন্ধন ঘটবে এবার সাহেবের কবরখানা মণ্ডপেই। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও ভালোবাসায় পুরো এলাকা উৎসবের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে মনে করছেন তারা। লাখো দর্শনার্থীর সমাগম সামাল দিতে এবং প্রত্যেকের জন্য নির্বিঘ্ন প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা করতে গ্রহণ করা হয়েছে সুসংহত প্রস্তুতি।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী শুভ পঞ্চমী তিথিতেই বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মণ্ডপের দ্বার উন্মোচন করা হবে। আর ওই দিন থেকেই সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে প্রতিমা দর্শনের সুযোগ। শরতের আমেজ আর ১২৯ বছরের ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে এবার খুলনার সাহেবের কবরখানা পূজা মণ্ডপ যে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয় জয় করে নেবে—তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment