চাঁদপুরে টানা দ্বিতীয়বার জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের খরচই কাল হলো জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলাই সূত্রধরের (৩৫)। ধারদেনা ও ঋণে জর্জরিত হয়ে মানসিক চাপে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ। বলাই সূত্রধর চাঁদপুর সদরের ১০ নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বহরিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি এই বাজারের সিআইপি বেরিবাঁধের সঙ্গে ‘মায়া শিল্পালয়’ নামে স্বর্ণের দোকানে নিজের জুয়েলারি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত ১ নভেম্বর রোববার বিকেলে বলাই নিজের দোকানে থাকা এসিড পানি হতাশায় খেয়ে ফেলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বহরিয়া বাজারের ফল ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, বলাই হতাশা থেকে নিজ দোকানের এসিড পানি খেয়ে নেন। পরে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করলে বাজারের ব্যবসায়ীরা টের পেয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক অবস্থার বেগতিক দেখে ঢাকা পাঠানোর সময় কুমিল্লা অতিক্রমকালে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়। বলাই তাদের তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট।
স্থানীয়রা জানান, বলাইয়ের আর্থিক অবস্থা আগে থেকেই ভালো ছিল না। তখন তিনি মানুষের কাজ করাতে রাখা স্বর্ণালংকার ভেঙে ভেঙে বিক্রি করাসহ নানা উপায়ে ধারদেনা করে জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রথমবার বিয়ে করেন। এতে বিশাল প্যান্ডেল, শত শত লোকের খাওয়াদাওয়াসহ অনুষ্ঠান বাবদ ব্যাপক খরচ হয়। ওই স্ত্রী গর্ভাবস্থায় স্ট্রোকে মারা যান। এরপর প্রথম বিয়ের ধারদেনা শোধ না করেই ৬ মাসের মধ্যে তিনি পুনরায় আরও ধারদেনা করে পূর্বের চেয়েও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর জমি কিনে চৌচালা বাড়ি তৈরি করায় তিনি আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সাড়ে ৩ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে এবং ওই স্ত্রী বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বলাইয়ের স্ত্রী বৃষ্টি রানী সূত্রধর বলেন, ‘এই চৌচালা বাড়িটুকু ছাড়া বলাই আর কিছুই আমাদের জন্য রেখে যায়নি। এখন আমার ও আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’ তিনি পাওনাদারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, ময়নাতদন্ত শেষে বলাইয়ের মরদেহ সৎকারের জন্য তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি ঋণের চাপে হতাশা থেকে এসিড পানি খেয়েই এভাবে মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment