বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা, ভূমি রেকর্ডে কথিত অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।
‘অপরান বাংলাদেশ হিন্দু সংখ্যালঘু’ শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস ও তাঁর চাচা অমল চন্দ্র দাস।
সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুর তাঁদের পরিবার ১৯৫৯ সাল থেকে ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে ওই সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খান এবং গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি।
সঞ্জয় চন্দ্র দাস বলেন, তাঁদের পৈতৃক জমিটি কলেজের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে অবস্থিত এবং জমি ও কলেজের মধ্যবর্তী স্থানে সরকারি রাস্তা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কলেজের নাম ব্যবহার করে তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সম্পত্তি রক্ষায় ২০২০ সালে উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দেওয়ানি মামলা (নম্বর ১৪/২০২০) করা হয়েছে, যার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬। এছাড়া হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ এবং উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের মামলা চলমান রয়েছে।
মানববন্ধনে ভূমি রেকর্ডে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়। সঞ্জয় চন্দ্র দাসের দাবি, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের এক কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে তাঁদের পৈতৃক জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে কলেজের সম্পত্তির সঙ্গে একীভূত করেছেন। কোনো নোটিশ না দিয়েই তাঁদের জমি কর্তন করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার। ধর্মীয় পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান যা-ই হোক, কোনো পরিবার যেন প্রভাবশালী মহলের চাপ, ভয়ভীতি বা হয়রানির কারণে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভূমি রেকর্ড জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সঞ্জয় চন্দ্র দাস জানান, এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment