বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Wednesday, November 4, 2026

দারিদ্র্যকে হারিয়ে ভ্যানচালক বাবার মুখ উজ্জ্বল করল তিথি: পুরো কলেজে একমাত্র এ প্লাস!


সংসারে অভাব ছিল, ছিল না প্রাইভেট কিংবা কোচিং করার সামর্থ্য। তবুও দারিদ্র্যের কাছে হার মানেনি বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাকাল গ্রামের সুখরঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে তিথি বিশ্বাস।

বাবা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। আর সেই বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে তিথি নিজেই শুরু করে কঠিন জীবনসংগ্রাম। কখনো অন্য শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়েছে, কখনো সেলাই মেশিনে কাজ করেছে। নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই জোগাড় করেছে, তবুও পড়াশোনায় একটুও পিছিয়ে পড়েনি।

প্রতিদিন বাবার ভ্যানে চড়ে কলেজে যাওয়া, নিয়মিত ক্লাস করা আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এসএসসিতে অর্জন করেছে গোল্ডেন এ প্লাস। এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও পেয়েছে এ প্লাস।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, আগৈলঝাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের জেনারেল শাখা থেকে ৫২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০১ জন। আর পুরো কলেজে এ প্লাস পেয়েছে একমাত্র তিথিই!

মেয়ের এমন সাফল্যে বাবা-মায়ের চোখে আনন্দ থাকলেও সামনে উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, সেই দুশ্চিন্তাও রয়েছে। তিথির মা আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, মেয়ের পড়াশোনায় সাহায্য করার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেও খরচ চালানো তাঁদের পক্ষে কঠিন।

তবে আশার কথা, তিথির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আর্থিক সমস্যার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

তিথির স্বপ্ন শুধু নিজের পায়ে দাঁড়ানো নয়, বরং এমন একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছানো, যাতে একদিন তার বাবাকে নিয়ে সবাই গর্ব করে বলতে পারে, এই সেই গর্বিত বাবা, যার মেয়ে আজ নিজের যোগ্যতায় পরিচিত!

একজন ভ্যানচালক বাবার ঘাম আর মেয়ের অদম্য পরিশ্রমের এই গল্প আমাদের প্রমাণ করে দেয়, অর্থের অভাব স্বপ্ন দেখার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।

অর্থের অভাবে যেন তিথির মতো আর কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেমে না যায়। তিথির পাশে দাঁড়াক সমাজ ও রাষ্ট্র, এটাই প্রত্যাশা।


 

No comments:

Post a Comment

"
"