বিয়ে, জন্মদিন বা যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি এলে জনপ্রতি ২৫ টাকা করে সরকারি ফি দিতে হবে— এমনই এক প্রায় বিস্মৃত ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ’ আবার আলোচনায় এসেছে। ১৯৮৪ সালে জারি করা এ আদেশটির বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।
১৯৮৪ সালের ৩ জুলাই জারি করা ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত বা সামাজিক আয়োজনে নিজ পরিবারের সদস্যদের বাইরে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে চাল বা গমের তৈরি খাবার পরিবেশন করতে পারবেন না। যদি বিশেষ কারণে তার বেশি অতিথি করতেই হয়, তবে জেলা প্রশাসক বা ইউএনওর কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিয়ে নির্ধারিত ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে প্রত্যেক অতিরিক্ত অতিথির জন্য ২৫ টাকা করে রাজস্ব জমা দিতে হবে। এই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানোর আইনি ক্ষমতা দেওয়া আছে খাদ্য পরিদর্শক, পুলিশের গেজেটেড কর্মকর্তা বা প্রশাসনের মনোনীত কর্মকর্তাকে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে আয়োজক ও ভেন্যুর মালিক উভয়েরই জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে।
২০০৩ সালে এক সংশোধনীতে মিলাদ মাহফিল, ইফতার, কুলখানি, ওরস ও শ্রাদ্ধের মতো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না হলেও কার্যকর প্রয়োগ ও নজরদারির অভাবে এই আদেশটি এখন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। দেশের বড় বড় কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেনশন হলে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বিয়েসহ নানা জমকালো আয়োজন হলেও এই অনুমতি নেওয়া বা ফি জমা দেওয়ার প্রথা একেবারেই চর্চায় নেই।
সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বিয়ে ও গায়েহলুদের মতো অনুষ্ঠানে জাঁকজমক ও অপচয় রোধে এই আদেশ আবার কার্যকর করার আহ্বান জানানোর পরই ফের এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। একটি আইন থেকে গেলেও তার বাস্তব প্রয়োগ না থাকার আরেকটি উদাহরণ হয়ে রইল এই ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ’।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment