বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, June 29, 2026

স্বপ্নে দুজনের যোগাযোগ আর কল্পকাহিনি নয়, প্রমাণ দিচ্ছে বিজ্ঞান

বাস্তবে কখনো দেখা হয়নি, অথচ প্রতি রাতে স্বপ্নে দুজন মানুষের দেখা হয়, কথোপকথন চলে— এমন পটভূমি শুধু সিনেমার গল্প নয়। বিজ্ঞান বলছে, স্বপ্নে দুজন মানুষের মধ্যে যোগাযোগের সম্ভাবনা বাস্তবেও প্রবল। একে ঘিরে সম্প্রতি এক যুগান্তকারী সাফল্যও পেয়েছেন গবেষকরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, লুসিড ড্রিম বা সচেতন স্বপ্নের মাধ্যমে এটি সম্ভব। লুসিড ড্রিম এমন এক অবস্থা, যেখানে ঘুমের মধ্যেই মানুষ বুঝতে পারে যে সে স্বপ্ন দেখছে, এমনকি স্বপ্নের দৃশ্যপট নিজের ইচ্ছায় নিয়ন্ত্রণও করতে পারে। যখন দুজন মানুষ একই সময়ে ঘুমের র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (রেম) পর্যায়ে থাকেন, তখন তাদের মধ্যে সংকেত বিনিময় সহজ হয়। গবেষণায় ইইজি ব্যবহার করে দেখা গেছে, এ সময় তাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুর প্যাটার্ন একইভাবে সক্রিয় হয়, যা যোগাযোগের ধারণাকে আরও জোরালো করে।
২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউরোটেকনোলজি স্টার্টআপ 'রেমস্পেস' এক যুগান্তকারী পরীক্ষা চালায়। এতে দুইজন অভিজ্ঞ লুসিড ড্রিমার নিজ নিজ বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন, কোনো প্রকার সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই। বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে দূর থেকে তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। প্রথম ব্যক্তি লুসিড ড্রিমে প্রবেশ করলে সার্ভার থেকে একটি নির্দিষ্ট শব্দ তার ইয়ারবাডে পাঠানো হয়, যা তিনি স্বপ্নের ভেতরেই উচ্চারণ করেন এবং সেটি রেকর্ড হয়। মাত্র আট মিনিট পর দ্বিতীয় ব্যক্তি লুসিড ড্রিমে প্রবেশ করলে রেকর্ড করা সেই শব্দই তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ঘুম ভাঙার পর তিনিও শব্দটি নিশ্চিত করেন। অনেকেই একে ‘ড্রিম টেলিপ্যাথি’ বললেও এটি মূলত প্রযুক্তির সহায়তায় স্বপ্নে যোগাযোগের এক বৈপ্লবিক প্রমাণ।
গবেষকরা ধারণা করছেন, ইতিহাসে স্বপ্নে সতর্কবার্তা পাওয়ার যে ঘটনাগুলো প্রচলিত, সেগুলোর পেছনেও মস্তিষ্কের এমনি কোনো অনাবিষ্কৃত সমন্বয় কাজ করতে পারে। এই গবেষণা ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হওয়ার পর স্বপ্ন-গবেষণার জগতে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। স্বপ্নের জগৎ নিয়ে মানুষের হাজারো প্রশ্ন আর কল্পনার দরজা যেন আরেকটু খুলে গেল।

No comments:

Post a Comment

"
"