বর্ষা এলেই ডেঙ্গু আতঙ্ক বেড়ে যায়, কিন্তু এখন তা আর শুধু মৌসুমি রোগ নয়, সারা বছরই ডেঙ্গু রোগী মিলছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, শুধু প্রকোপই বাড়েনি, বরং ডেঙ্গু ভাইরাসের চরিত্র ও লক্ষণেও এসেছে বড় ধরনের রূপান্তর। এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় সচেতনতা ও প্রতিরোধকৌশলেও পরিবর্তন আনা জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
আগে ডেঙ্গু মানেই ছিল তীব্র জ্বর, চোখ-পিঠ-অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, শরীরে লাল র্যাশ— যাকে ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ বলা হতো। কিন্তু এখনকার ডেঙ্গু অনেক বেশি ছদ্মবেশী। অনেক সময় সামান্য জ্বর বা গা ম্যাজম্যাজ করলেই রোগী টের পান না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। আবার আগের ধারণা বদলে জ্বর কমে যাওয়ার পরই শুরু হচ্ছে প্রকৃত বিপদ। জ্বর কমার তিনদিনের ‘ক্রিটিক্যাল ফেজে’ রক্তচাপ কমে যাওয়া, প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তাই জ্বর সেরে গেলেও এ সময়টায় নিয়মিত প্লাটিলেট কাউন্টসহ বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
নতুন চরিত্রের ডেঙ্গু লিভার, কিডনি বা মস্তিষ্কেও দ্রুত প্রভাব ফেলছে। জ্বরের চেয়ে বমি, তীব্র পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো উপসর্গ এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। পেটের ডান পাশের ওপরের দিকে ব্যথা ও জন্ডিস দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপরন্তু, দ্বিতীয়বার ভিন্ন ভেরিয়েন্টে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ‘ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার’ বা শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যা প্রাণনাশক। চিকিৎসকরা বলছেন, এই বদলে যাওয়া চরিত্রের ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশারি ব্যবহার বা মশা নিধন নয়, লক্ষণ বুঝে দ্রুত পরীক্ষা ও সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধকৌশল।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment