বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, August 23, 2026

দোকান দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর আবেদন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা বাজারে ৫৩ বছর ধরে বংশপরম্পরায় লিজ নিয়ে আসা একটি টিনশেড দোকানঘর দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সুভাষ চন্দ্র পাল নামের এক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ, গত ৪ জুলাই প্রকাশ্য দিবালোকে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোকের সহায়তায় আরিফ খান নামের এক ব্যক্তি দোকানটির তালা ভেঙে মালামাল লুট করে দখলে নেন।

গত ২৩ জুলাই সুভাষ চন্দ্র পালের স্বাক্ষর করা আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সুভাষ চন্দ্র পালের দাবি, দোকানটি সরকারের ‘ক’ তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তির ওপর স্থাপিত। তার স্ত্রী কেয়া রানী পালের নামে বর্তমানে দোকানটি লিজ নেওয়া। এর আগে তার নিজের নামে এবং তারও আগে তার বাবা মৃত সুধীর চন্দ্র পালের নামে লিজ ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত লিজ মানি পরিশোধ করে প্রায় ৫৩ বছর ধরে তাদের পরিবার দোকানটি ভোগ করে আসছে।

আবেদনে সুভাষ চন্দ্র পাল উল্লেখ করেন, গত ৪ জুলাই আরিফ খান অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানের তালা ভেঙে মালামাল লুট করেন এবং দোকানটি দখলে নেন। পরে দোকানটি ফিরে পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা মৌজার এসএ খতিয়ান ৩৮ ও ৯৯-এর ৩৯ ও ৪৩ নম্বর দাগে ০.০১০০ শতাংশ জমির ওপর দোকানটি স্থাপিত। কেয়া রানী পাল অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে স্বামী সুভাষ চন্দ্র পাল দোকানটি দখলমুক্ত করে ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র অনুযায়ী, কেয়া রানী পালের কাছ থেকে সর্বশেষ ১৪৩১ বাংলা সনের লিজ মানি গ্রহণ করা হয়। এরপর গত ২৫ জুন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে মো. আরিফ খানের নামে ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য ওই দোকানের লিজ মানি গ্রহণ করা হয়।

আবেদনে বলা হয়েছে, আরিফ খানের কাছ থেকে লিজ মানি গ্রহণের আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় কেয়া রানী পালকে লিজ মানি পরিশোধের নোটিশ দিয়েছিল। পরে আরিফ খান ওই কার্যালয়ে ১৪৩১ বাংলা সনের লিজ মানি হিসেবে ৬ হাজার ৭৯৯ টাকা পরিশোধ করেন। অথচ একই দোকানের জন্য কেয়া রানী পাল প্রতিবছর ১৯ হাজার ১১৮ টাকা করে লিজ মানি দিয়ে আসছিলেন।

বাংলা ১৪৩৩ সনের লিজ মানি পরিশোধের জন্য কেয়া রানী পাল সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া আবেদনে সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু দোকান দখলের ঘটনায় তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

দোকানটি উদ্ধারের জন্য ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা জেলা প্রশাসক, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান। কিন্তু কোথাও প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

আবেদনে সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, ‘আপনিই আমাদের আশ্রয়স্থল।’ দোকানটি দখলমুক্ত করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

No comments:

Post a Comment

"
"