‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে রিল ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়া সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের পক্ষে এবার কথা বলেছেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক মো. বদরুজ্জামান বাপ্পি। ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি বিউটি পাল ও তার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের সহপাঠী বিউটি পাল সম্পর্কে বাপ্পি লিখেছেন, আমাদের ব্যাচের ৬০ জনের মধ্যে অনেকে বর্তমানে দেশ-বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন, বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন, কিন্তু বিউটি পাল ও মাসুদুল ইসলাম রানা বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে অবহেলিত স্তর। ফলাফল ছিল ফার্স্ট ক্লাস, যোগ্যতা ছিল উজ্জ্বল—তবু তাঁরা শহুরে আরাম বাদ দিয়ে গ্রামের শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
যে বাস্তবতায় তাঁরা কাজ করেন
বাপ্পি তার পোস্টে তুলে ধরেন, বিউটি পাল কর্মরত সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ কিংবা মাসুদুল ইসলাম রানার কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম—যেখানে এখনো ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, নেই শিক্ষকদের জন্য বই কেনার প্রণোদনা, নেই ইন্টারনেট ভাতা। তিনি লেখেন, ‘তাদের অপরাধ—নীল রঙের শাড়ি পরে শিশুদের পড়ানো, বাতাসে চুল উড়িয়ে স্বপ্ন দেখা। তাদের অপরাধ—গ্রামের শিশুদের ইংরেজি শেখানো, টুইংকেল টুইংকেল গাইতে শেখানো। যেন এসব শুধু শহরের শিশুদের জন্যই বরাদ্দ!’
‘শিক্ষার মাধ্যমেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশ’
বাপ্পি নিজেও একজন শিক্ষক দাবি করে লেখেন, ১৩ বছরের শিক্ষকতায় তিনি কোনো ক্লাস মিস করেননি। তিনি মনে করেন, শিক্ষার মাধ্যমেই বাংলাদেশ বদলে যেতে পারে। বিউটি পাল ও মাসুদুল ইসলাম রানার মতো শিক্ষকরাই সেই স্বপ্নের সৈনিক। তিনি শেষে লেখেন, ‘স্যালুট বিউটি পাল, মাসুদুল ইসলাম রানা এবং তোমাদের মতো শত শত স্বপ্নবাজ শিক্ষককে।’
বদরুজ্জামান বাপ্পির এই পোস্ট ভাইরাল হলে আবারও আলোচনায় ফিরে আসে বিউটি পালের নাম। এবার সমালোচনার বদলে প্রশংসার ঝড় উঠেছে শিক্ষিকা ও তার মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের নিয়ে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment