বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, July 28, 2026

শনিতে বছরে এক হাজার টন হীরা তৈরি হয়, দাবি বিজ্ঞানীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৮ জুলাই ২০২৬: সৌরজগতের অন্যতম রহস্যময় গ্রহ শনি। নিজস্ব বলয় ও মেঘের আস্তরণের কারণে এর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করা কঠিন হলেও বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গ্রহে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ হীরা তৈরি হচ্ছে। বছরে অন্তত এক হাজার টন হীরা তৈরি হওয়াও সেখানে অস্বাভাবিক নয় বলে দাবি করেছেন তারা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেভিন বাইনেস এবং নাসার যৌথ গবেষণার কথা। গবেষকদের মতে, শনির বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন, হিলিয়ামের পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর মিথেন গ্যাস। সেখানে মাঝেমধ্যেই সৃষ্টি হওয়া প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাতের সময় মিথেন অণু ভেঙে কার্বন তৈরি করে। সেই কার্বন ঝরে পড়তে থাকে শনির অভ্যন্তরের দিকে, যেখানে চাপ ও তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

চাপ ও তাপে কার্বনের রূপান্তর

বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে চাপের প্রভাবে কার্বন প্রথমে গ্রাফাইটে পরিণত হয়, যা পেনসিলের সিসের মতো। পরে আরও গভীরে অতি উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় সেই গ্রাফাইট শক্ত হীরাতে রূপ নেয়। পৃথিবীর চেয়ে আয়তনে অনেক বড় শনি গ্রহের বিভিন্ন স্তরে চাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণেই এই রূপান্তর ঘটে।

গবেষকেরা আরও জানান, শনির অভ্যন্তরের প্রচণ্ড তাপের কারণে অনেক হীরা গলে তরল অবস্থায়ও থাকতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা মহাকাশযানের কোনো ছবি পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে শনির মতো কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে এই প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত হয়েছেন।

এ দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত—তা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে আলোচনা চললেও, এটা সত্যি হলে শনি হয়ে উঠবে সৌরজগতের সবচেয়ে মূল্যবান ‘হীরার খনি’।

No comments:

Post a Comment

"
"