বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের একটি ছোট্ট দোকান ৮০ বছরের বৃদ্ধা মালতী রাণীর জীবনের শেষ সম্বল। এই সম্বলটুকু আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। দীর্ঘ আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও আজও তিনি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন; মামলাটি বর্তমানে বরিশাল সিনিয়র সিভিল কোর্টে বিচারাধীন।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট ও প্রভাব খাটিয়ে মো. জামাল হোসেন নোমান এবং তার ভাই মো. হুমায়ুন কবির লিংকু দীর্ঘদিন ধরে এই অসহায় সনাতনী বৃদ্ধা ও তার পরিবারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। গত ৬ আগস্ট দেশে তৈরি হওয়া অস্থায়ী অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে তারা পুনরায় ওই দোকানটিতে অতর্কিত হামলা, চরম ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালান। জীবন বাজি রেখে বাধা দিতে গেলে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মালতী রাণী, তার কন্যা ও জামাতাকে শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আইনগত প্রক্রিয়াকে ফাঁকি দিতে অভিযুক্তরা ২০০৪ সালের মূল দেওয়ানি মামলার বিষয়টি গোপন করে উল্টো মালতী রাণীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। কেবল জেরার নামে আদালতের ১৯টি কার্যদিবস পার করে বিচারপ্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্থবির করে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই প্রভাবশালী চক্রের দাপট কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ অমানবিক বিচারহীনতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে আশি ছুঁইছুঁই এই সনাতনী বৃদ্ধা জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের দিকে সুশীল সমাজের প্রশ্ন—যে ন্যায়বিচার একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার, তা কি তবে এই অসহায় বৃদ্ধার মৃত্যুর পর আসবে?
.jpeg)
No comments:
Post a Comment