ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় একই এলাকায় দুই দিনের ব্যবধানে দুটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে দুর্বৃত্তরা শিবমূর্তির মাথা ভেঙে ফেলে। এর আগে সোমবার রাতে একই ইউনিয়নের বামুন্দী বাজারের একটি মন্দিরেও প্রতিমা ভাঙচুর হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় শতবর্ষী বামুন্দী কালী মন্দিরের সামনে গ্রিল দিয়ে ঘেরা। দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাঁশ বা লাঠি ঢুকিয়ে ভেতরের শিবমূর্তির মাথা ভেঙে ফেলে। বৃহস্পতিবার ভোরে পূজা দিতে এসে পূজারী বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বিষয়টি প্রথম দেখতে পান। খবর পেয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জন সরকার পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
তবে এর আগে সোমবার রাতে বাজার মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের পরও কোনো মামলা হয়নি। বাজার কমিটির সভাপতি নিরোদ চক্রবর্তী বলেন, "কারা ঘটনা ঘটিয়েছে জানি না, তাই মামলা করিনি।"
এদিকে পরপর দুইটি মন্দিরে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সোমবারের ঘটনায় খবর পেয়ে মধুখালী থানার ওসি শুকদেব রায় বিষয়টি চেপে যেতে এবং বিতর্ক এড়াতে দ্রুত ভাঙা প্রতিমা বিসর্জনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই পরামর্শেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে ওসি শুকদেব রায় এ অভিযোগ বিস্ময়ের সঙ্গে অস্বীকার করে বলেন, "আমি ঘটনা চেপে যেতে বলব কেন? বাজার মন্দিরের ঘটনায় এখনো মামলার সুযোগ আছে। আর কালী মন্দিরের ঘটনায় আমরা তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।" এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment