উত্তরবঙ্গের দিনাজপুরে ঢেপা নদীর শান্ত তীরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন কর্নাই মন্দির এখন হয়ে উঠেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী, ইতিহাসপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়া এই মন্দিরটি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হয়ে শতাব্দী পেরিয়ে আজও টিকে আছে।
জেলা শহর থেকে অল্প দূরত্বে কর্নাই বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই মন্দির দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের আস্থা ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এর ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসতে শুরু করেন। তুলশী-বিষ্ণু মন্দির নামেও পরিচিত এই স্থাপনার নির্মাণকাল নিয়ে স্পষ্ট লিখিত তথ্য না থাকলেও, ঐতিহাসিকদের ধারণা, দিনাজপুর রাজপরিবারের মহারাজ প্রাণনাথ বা তার উত্তরসূরিদের আমলে এটি নির্মিত হতে পারে। দেয়ালের কারুকাজ ও চূড়ার নকশা মধ্যযুগীয় বাংলার মন্দির স্থাপত্যের উজ্জ্বল নিদর্শন বহন করছে।
নদীর নির্মল বাতাস আর সবুজে ঘেরা প্রাচীন ইটের গাঁথুনি মন্দিরটিকে দিয়েছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই অঞ্চলের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি কর্নাই দেবীর আশীর্বাদ তাদের বিপদে-আপদে রক্ষা করে। তাই মানত করে পূজা দেওয়া ও ধর্মীয় তিথিতে ভক্তসমাগম এখানকার নিয়মিত চিত্র। বিখ্যাত কান্তজিউ মন্দিরের মতো এতটা পরিচিত না হলেও কর্নাই মন্দির ইতোমধ্যে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী ও তরুণ ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, যথাযথ সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই মন্দির উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়-ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সনাতন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গল্প পৌঁছে দেবে।

No comments:
Post a Comment