আধুনিক জীবনযাপনে স্ক্রিনের দীর্ঘ সময় ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ ও এসি পরিবেশের কারণে চোখের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া আবার একইসঙ্গে চোখ শুকনো লাগা— এই পরস্পরবিরোধী উপসর্গের পেছনের চমকপ্রদ কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের মারেনগো এশিয়া হাসপাতালের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শিবাল ভরতিয়া।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে তিনি বলেন, চোখের ওপর থাকা পানির পাতলা স্তর বা টিয়ার ফিল্মের তিনটি অংশ— তেল, পানি ও মিউকাস। এই স্তর নষ্ট হলে চোখ জরুরি সংকেত পাঠালে মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ পানি নিঃসরণ করে, যাকে বলে 'রিফ্লেক্স টিয়ারিং'। এই অতিরিক্ত পানি চোখের প্রকৃত আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না, তাই চোখ একইসঙ্গে শুষ্ক থাকে আবার পানি পড়তেও থাকে।
বিশেষজ্ঞের মতে, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিনগুণ কম চোখের পলক ফেলা হয়। এতে চোখের পাতার তেল গ্রন্থি বন্ধ হয়ে যায় এবং চোখের পানি দ্রুত শুকায়। দীর্ঘ যাতায়াত, বায়ুদূষণ ও এসি এই সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে।
ডা. শিবাল সতর্ক করে বলেন, চোখ দিয়ে পানি পড়া যা সন্ধ্যায় বাড়ে, চোখ জ্বালা-পোড়া, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আবার পরিষ্কার হওয়া, বাতাসে সংবেদনশীলতা ও পর্যাপ্ত ঘুমের পরও চোখ ক্লান্ত লাগা— এই লক্ষণগুলোর কোনোটি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বিনা পরীক্ষায় কৃত্রিম চোখের ড্রপ ব্যবহার না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
প্রতিকার হিসেবে চোখের পাতায় গরম সেঁক, ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট, প্রিজারভেটিভমুক্ত লুব্রিকেটিং ড্রপ এবং সচেতনভাবে চোখের পলক ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক। তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় হাসপাতালে তেল গ্রন্থির সরাসরি চিকিৎসা নেওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment