নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়নকাজ বন্ধে করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। রোববার নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার পিংকি পারটেক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আম্বার পেপার মিলসের করা আবেদন নাকচ করলে শ্মশানের উন্নয়নে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
রায়ের পরই মন্দির ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, "আদালত স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি ও জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটি আইনের শাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।" পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় এবং আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে, বাদী পক্ষের আইনজীবী মজিদ খন্দকার জানান, তারা উচ্চ আদালতে যাবেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
জানা গেছে, এরশাদ আমলে মাত্র ১ টাকায় প্রায় ৭ একর জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত পায় পারটেক্সের প্রতিষ্ঠানটি, যার বর্তমান বাজারমূল্য শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে। কিন্তু ওই জমির ভেতরেই ১৭৯৩ সাল থেকে চলে আসা শ্মশান ও মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাড়ে ৩ কোটি টাকার আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজও উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশে থেমে গিয়েছিল। শ্মশান কমিটির অভিযোগ, জমি লিজের সময় শ্মশানের ৩১ শতাংশ জমির বিষয়টি গোপন রাখা হয়, যা তদন্তের দাবি রাখে। সর্বশেষ এই রায়ে আবারও উন্নয়নের পথ খুলল শতাব্দীপ্রাচীন এই ধর্মীয় স্থাপনার।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment