সকালে ঘুম ভাঙতেই হাতে মোবাইল, তারপর সেটি নিয়ে বাথরুমে— এমন অভ্যাস এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিডিও দেখা, সামাজিক মাধ্যম স্ক্রল করা কিংবা চ্যাট করতে করতে প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি সময় বাথরুমে কাটান অনেকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই আপাত নিরীহ অভ্যাস ডেকে আনছে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা।
প্রথমত, বাথরুম ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর আঁতুড়ঘর। ফ্লাশ করার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া অণুজীব সহজেই মোবাইলের গায়ে লেগে যায়। পরে সেই ফোন ব্যবহার, খাওয়ার সময় বা বিছানায় নেওয়ার মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, মোবাইল হাতে কমোডে বসে থাকার ফলে মলদ্বারের শিরায় দীর্ঘ সময় চাপ পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এ অভ্যাস পাইলস বা হেমোরয়েডের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি, শরীরের স্বাভাবিক সংকেত উপেক্ষা করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে ব্যাহত হয় মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহারের ফলে ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, দীর্ঘমেয়াদে দেখা দিতে পারে মাংসপেশির সমস্যা। আবার অল্প সময়ের প্রয়োজনে বাথরুমে ঢুকে ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে ২০-৩০ মিনিট কাটিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সময়ের অপচয় তো ঘটেই, সেই সঙ্গে মোবাইল ছাড়া থাকতে না পারা ডিজিটাল আসক্তির ইঙ্গিতও বহন করে। ভেজা হাতে ফোন ধরা বা চার্জিং ডিভাইস ব্যবহার করা থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো— বাথরুমে যাওয়ার আগে মোবাইল বাইরে রেখে যাওয়ার অভ্যাস গড়া, অপ্রয়োজনে বেশিক্ষণ কমোডে না বসা, নিয়মিত ফোন পরিষ্কার রাখা এবং ঘুম থেকে উঠেই ফোন না ধরে আগে দৈনন্দিন জরুরি কাজ সারা। প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে না তুললে অতিরিক্ত ব্যবহার বিপদও ডেকে আনতে পারে।

No comments:
Post a Comment