পরিবারে বাবা, মা বা ভাইবোনের কারও ডায়াবেটিস থাকলে অনেক অভিভাবকই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক ইতিহাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ালেও তা অনিবার্য নয়। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ভারতের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. নিশান্ত রাইজাদার মতে, জিনগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিশুর খাদ্যাভ্যাস, ওজন এবং দৈনন্দিন জীবনধারাই ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। একই মত দিয়েছেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. অনুপম বিশ্বাস। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে বংশগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও টাইপ–২ ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই শিশুর খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন এবং ভালো চর্বিযুক্ত খাবার রাখা উচিত। অন্যদিকে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্টফুড যতটা সম্ভব সীমিত রাখতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার, ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা নাচের মতো সক্রিয় কাজে অংশগ্রহণ করলে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং স্থূলতার ঝুঁকি কমে।
চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত ঘুমের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। ঘুমের অভাব ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা এবং ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা টেলিভিশন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শিশুর মধ্যে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি বা ঘাড় ও বগলের ত্বকে কালচে দাগের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনেটিক ঝুঁকি থাকলেও সেটিই শেষ কথা নয়। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু ডায়াবেটিস নয়, আরও অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

No comments:
Post a Comment