চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘টাইপ–৫’ ডায়াবেটিস। এটি প্রচলিত টাইপ–১ বা টাইপ–২ ডায়াবেটিসের মতো নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পৃথক ধরন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৫ সালে International Diabetes Federation (IDF) টাইপ–৫ ডায়াবেটিসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এখনো এটিকে তাদের আনুষ্ঠানিক শ্রেণিবিন্যাসে অন্তর্ভুক্ত করেনি এবং বিষয়টি নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পর্যালোচনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশব বা কৈশোরে দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে থাকলে অগ্ন্যাশয়ের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ইনসুলিন উৎপাদিত হয় না। একই সঙ্গে এ ধরনের রোগীরা ইনসুলিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলও হতে পারেন। এ কারণে প্রচলিত চিকিৎসা সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে।
গবেষকদের ধারণা, বিশ্বের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে রোগটি এখনো অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে শনাক্ত না হওয়ায় অনেক রোগী ভুল চিকিৎসা পাচ্ছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, টাইপ–৫ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্ষুধা, দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এসব লক্ষণ টাইপ–১ বা টাইপ–২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে মিল থাকায় রোগ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে ভোগা, কম ওজনের কিশোর-তরুণ এবং দক্ষিণ এশিয়া ও সাহারা-দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলের মানুষ এ রোগে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তাদের মতে, উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা ও পুষ্টি পরিকল্পনা নির্ধারণ করলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

No comments:
Post a Comment