বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, July 12, 2026

পিরোজপুরের সজল কুমার দেউরীর মৃত্যু ঘিরে নতুন তথ্য, গুজব না ছড়ানোর আহবান পরিবারের

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের গার্মেন্টসকর্মী সজল কুমার দেউরীর আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার ১৩ দিন পর নিহতের স্ত্রী, মা ও ছোট ভাই দাবি করেছেন, আত্মহত্যার পেছনে পরকীয়ার কোনো ঘটনা ছিল না। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ ও মানসিক চাপই এ মর্মান্তিক ঘটনার মূল কারণ।

পরিবারের অভিযোগ, সজলের মৃত্যুর পর একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পরকীয়ার গুজব ছড়িয়ে প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে প্রতিহিংসাবশত এক কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীর নামও এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার জানান, তার সঙ্গে স্বামী সজল কুমার দেউরীর দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই বসতবাড়ি ও পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরোধ চলছিল। তার দাবি, সেই মানসিক চাপের কারণেই সজল আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

রঞ্জিতা আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গেলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন।

নিহতের ছোট ভাই সুজিত কুমার দেউরী বলেন, বড় ভাই তাদের পরিবারের প্রধান অভিভাবকের মতো ছিলেন। তিনি জানান, সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে কিছু পারিবারিক মতবিরোধ থাকলেও পরকীয়ার কোনো বিষয় তাদের জানা ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যার নাম ছড়ানো হয়েছে, তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং তাদের মধ্যে কোনো আপত্তিকর সম্পর্কের তথ্য পরিবারের জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন।

নিহতের মা লক্ষ্মী রানী দেউরী বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে সজলই পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেন। সামান্য পারিবারিক বিরোধের কারণে এমন ঘটনা ঘটবে, তা তারা কল্পনাও করেননি। তিনি দাবি করেন, ছেলের মৃত্যুর আগে পরকীয়া নিয়ে কোনো অভিযোগ বা তথ্য তাদের জানা ছিল না।

পরিবার জানিয়েছে, ছোট নাতনির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সজল কুমার দেউরী ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ জুন রাজধানীর ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি ভিডিও কলে স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাটি ঢাকায় ঘটায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। নেছারাবাদ থানায় এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


No comments:

Post a Comment

"
"