বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Monday, August 31, 2026

দীর্ঘ তিন মাস পর খুলছে সুন্দরবন, প্রবেশের অনুমতি পাবেন জেলে-পর্যটকরা

দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে জেলে ও পর্যটকরা ওই দিন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে নির্দেশিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, এটি মৎস্যসম্পদেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেস্ট স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে জুন, জুলাই ও আগস্ট—সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। এই সময়ে জেলেদের মাছ-কাঁকড়া আহরণ, বাওয়ালীদের গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ, এমনকি পর্যটকদের বনে প্রবেশও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে।

দীর্ঘ তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পেরে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়েছে বলে জানান বনজীবীরা। জেলে আয়ুব আলী, ইসমাইল হোসেন, সুবোল মুন্ডাসহ কয়েকজন বলেন, ‘সুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন সুদ করেই নৌকা, জাল সারাই করছি। বনে গিয়ে মাছ-কাঁকড়া ধরে ঋণ শোধের পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতে হবে।’

শুধু জেলে নন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে যাদের অন্য ধরনের জীবিকা রয়েছে, তারাও তিন মাসের ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছেন। নীলডুমুর ট্রলার মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম জানান, পর্যটকের ওপর নির্ভর করে সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় পাঁচ শতাধিক ট্রলার চলে। নিষেধাজ্ঞার সময় ট্রলারচালক ও শ্রমিকরা বেকার জীবনযাপন করেন।

একাধিক জেলে জানান, সুন্দরবনের প্রায় ৭০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সবসময় বন্ধ থাকে। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে অসাধু জেলেরা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। এ কারণে সুন্দরবনের ৬০ ভাগ মাছ-কাঁকড়া আহরণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। তাদের মতে, এতে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার কমবে।

No comments:

Post a Comment

"
"