বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Sunday, August 16, 2026

প্রকৃতিতে শরতের আগমন, শিউলি-কাশফুলে মুখর সকাল

বর্ষার ভেজা আবহ পেরিয়ে প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে বদলের আভাস। আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা বাড়ছে, কোথাও কোথাও কাশফুল মাথা তুলছে। ভোরে শিউলির গন্ধে ভরে উঠছে চারপাশ। রাজধানীর ব্যস্ততার মধ্যেও প্রকৃতি জানান দিচ্ছে—ঋতু বদলাচ্ছে।

ভাদ্র ও আশ্বিন বাংলার শরৎকাল। নীল আকাশ, সাদা মেঘ, কাশফুল, শিউলি, শিশির আর নির্মল আলো—এই ছবি জড়িয়ে আছে শরতের সঙ্গে। বর্ষার টানা বৃষ্টির পর প্রকৃতিতে আসে স্বস্তি। বিল-ঝিলে শালুক-শাপলা, নদীর পাড়ে কাশবন আর খোলা আকাশে পাখিদের আনাগোনায় প্রাণ পায় প্রকৃতি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন—‘আজি কি তোমার মধুর মূরতি হেরিনু শারদ প্রভাতে! হে মাত বঙ্গ, শ্যামল অঙ্গ ঝলিছে অমল শোভাতে।’

শরৎ ফুলেরও ঋতু। শিউলি, বেলি, দোলনচাঁপা, বকুল, মালতী, শাপলা ও পদ্ম—বিভিন্ন ফুল এ সময় প্রকৃতিকে আলাদা রূপ দেয়। শিউলির সঙ্গে শরতের সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর। ভোরে গাছতলায় ঝরে থাকা সাদা-কমলা শিউলি দেখলেই বোঝা যায়, শরৎ তার নিজের পরিচয় নিয়ে হাজির হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথায়—

‘শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথি কই।’

শরৎ আবার উৎসবেরও ঋতু। শিউলির গন্ধের সঙ্গে আসে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। এরপর লক্ষ্মীপূজা, দীপাবলি—ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ। ফলে প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনেও তৈরি হয় আলাদা ব্যস্ততা ও আনন্দ।

তবে শহুরে নগরায়ণের চাপে কাশবন, খোলা মাঠ, জলাভূমি দ্রুত কমছে। এখন শরৎ দেখতে আলাদাভাবে শহরের প্রান্তে যেতে হয়—ঢাকার দিয়াবাড়ি, মিরপুর বেড়িবাঁধ, কেরানীগঞ্জ বা মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় এখনো মেলে শরতের চেনা দৃশ্য।

একসময় শরৎ দেখতে আলাদা করে কোথাও যেতে হতো না। বাড়ির পাশের মাঠ, পুকুরপাড় কিংবা গ্রামের পথেই তার দেখা মিলত। এখন শহুরে মানুষকে শরৎ খুঁজতে যেতে হয় শহরের প্রান্তে। তাই ঋতুটি চলে যাওয়ার আগে চারপাশে একটু তাকানো যেতে পারে। হয়তো দেখা যাবে, ব্যস্ত শহরের মধ্যেও শরৎ এখনো আছে কোনো একটুকরো নীল আকাশে, কাশফুলের দোলায় কিংবা ভোরের শিউলি গন্ধে।

No comments:

Post a Comment

"
"