নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর মড়াপুকুর এলাকায় একটি পুরোনো শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মৃত ব্যক্তি গজেন ঋষি (৬৫) খোদ্দনারায়ণপুর ঋষিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গজেন ঋষির মরদেহ সৎকারের জন্য শ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় মরদেহ সৎকার নিয়ে বাধা সৃষ্টি হলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন।
নিহতের ছেলে সন্তোষ ঋষি অভিযোগ করেন, মরদেহ নিয়ে শ্মশানে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি সৎকারে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে দুপুরের দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে শ্মশানের চুল্লি পরিষ্কার করে সেখানে গজেন ঋষির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কান্চু পাহান জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই শ্মশানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মরদেহ সৎকার হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে শ্মশানটির ব্যবস্থাপনা ও নামকরণ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও শ্মশানটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ এড়ানো সম্ভব হবে।
এলাকাবাসী জানান, শ্মশানটির দেখভাল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্টতা নেই, যার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত গজেন ঋষির সৎকার সম্পন্ন হয়।
.jpeg)
No comments:
Post a Comment