বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Tuesday, August 4, 2026

মিটফোর্ডের হরিজনদের ৩০ তারিখের মধ্যে ছাড়তে হবে ঘর ৩১ তারিখ বন্ধ করা হবে গ্যাস,বিদ্যুৎ এবং পানির সংযোগ উচ্ছেদ রোধ কল্পে

ঐতিহাসিক স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৬৮ বছর ধরে বসবাস করে আসা হরিজন সম্প্রদায় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ‘মিনিয়াডস কোয়ার্টার’ (সুইপার কলোনি) খালি করতে বলা হয়েছে, যা ওই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পরিচ্ছন্নতা রক্ষার কাজে নিয়োজিত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রাঙ্গণে বসবাস করে আসছেন। প্রায় ১৬৮ বছর ধরে চলে আসা এই বসতি শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, বরং এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রম, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ভবন অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভবন অপসারণের কাজ শুরু হবে।

নোটিশে আরও সতর্ক করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোয়ার্টার খালি না করলে ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। সময়মতো বাসা খালি না করলে পরবর্তী পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের বহন করতে হবে।

হরিজন সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তারা পুনর্বাসনের আবেদন জানালেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—প্রাঙ্গণে খালি জায়গা না থাকায় পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।

বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদের নোটিশ আসায় হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের স্বার্থেই এই উদ্যোগ। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, উন্নয়নের আগে শত শত পরিবারের নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

হরিজন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দীর্ঘ ১৬৮ বছরের এই বসতির বাসিন্দাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করে তবেই যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।


 

No comments:

Post a Comment

"
"