বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ


Breaking

Thursday, August 6, 2026

সুন্দরবনে দুই মাস প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সুফল: জুলাইয়ে ৮টি বাঘের দেখা, হরিণের বিচরণ বেড়েছে

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় দুই মাস বনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার পর ইতিবাচক ফল মিলেছে। গত জুলাই মাসে বনের পাঁচটি এলাকায় ৮টি বাঘের দেখা মিলেছে এবং হরিণও ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ করতে দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা দুই মাস বনে সব ধরনের বনজীবী ও পর্যটকের প্রবেশ বন্ধ থাকায় বন্যপ্রাণীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রাণীদের বিচরণ ক্ষেত্র বেড়েছে। ২০২৪ সালে বন বিভাগের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে ১২৫টি। আগের বছর ২০২৩ সালে বন বিভাগ ও আইইউসিএনের জরিপে সুন্দরবনে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণের তথ্য পাওয়া যায়।

সুন্দরবনে বাঘ সচরাচর দেখা না গেলেও গত জুলাইয়ে বনকর্মীরা পাঁচটি স্থানে ৮টি বাঘ দেখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—১৫ জুলাই বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে সুন্দরবন রেঞ্জে একসঙ্গে তিনটি বাঘকে নদী পার হতে দেখা যায়। ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক বন কার্যালয়ে একটি বাঘ হাঁটতে দেখা যায় এবং ২৬ জুলাই শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্যে আরেকটি বাঘ সাঁতার কেটে নদী পার হয়। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি আন্ধারমানিক ও হাড়বাড়িয়া এলাকায় বনের মধ্যে ক্যামেরা সংযোজন করেছে বন বিভাগ। গত ১৩ জুলাই ক্যামেরা স্থাপনের পর ১৪ ও ২৪ জুলাই সেখানে তিনটি বাঘের দেখা মেলে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, জুন থেকে আগস্ট মাস সুন্দরবনের নদী-খালের মাছের প্রজনন মৌসুম এবং বন্যপ্রাণীদেরও প্রজনন সময়। ২০২০ সালের ২৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি হওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ বন্ধ থাকে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বনের যে স্থানে হরিণ বেশি, সেখানে বাঘও বেশি। গত এক বছরে ফুট ট্রেইল বাড়ানোয় বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মালা ফাঁদই উদ্ধার হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ফুট।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম এ আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন বন বন্ধ থাকায় ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে বনকে বিশ্রাম দিতে হবে। করোনা মহামারির সময় সুন্দরবনসহ সারাবিশ্বে বন্যপ্রাণীর বিচরণ বেড়ে গিয়েছিল। তাই বর্ষাকালসহ নির্দিষ্ট কয়েক মাস বনে মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


 

No comments:

Post a Comment

"
"